প্রেম বিষয়ক তিনটি কবিতা




মধুসূদন রায়

(১)

ক্রমশ ফিকে হয়ে আসে সরল সমীকরণ
একপাশে স্থবির উষ্ণতর হাত
শিরায় শিরায় সুস্পষ্ট কলঙ্করেখা
জলপাই রং বিকেল মাথা রাখে কাঁধে
গান গেয়ে ওঠে মিথোজীবীত্ব

মনে রাখি না ডানা ঝাপটানোর শব্দ
গভীর রাতের ক্ষরণ

সমস্ত আঙুল জুড়ে গাঢ় অসুখ
জড়িয়ে ধরেছে হলুদ বাতিঘর, বিবর্ণ
                                                     কৈশোরের ভেজা চিঠি


(২)

হঠাৎ দুপুরে মেঘ করে এলে
জ্বানালার পর্দা সরিয়ে তোমাকে দেখতে পাই
অবিন্যস্ত চুল,চোখের কোনে জল –

তোমার জন্য অসমাপ্ত কবিতা
বালিশের পাশে রাখা খুচরো পয়সা
কার্নিশ থেকে আসা টুকরো রোদ
একটু একটু করে জমিয়ে রাখি

মেঘবালিকার চোখে চোখ রাখতেই
ছাতিমতলায় একাকিনীর চোখে শ্রাবন নামে
পুরানো রুমালে সুগন্ধী ঢেলে দেয় প্রেম

কিছু কি হারিয়ে ফেলেছি আমি ?




(৩)

তোমায় দেখলে আমার গ্রামের কথা মনে পরে

বুড়ো বটগাছের পাশে শশ্মানকালীর মন্দিরের
পোড়ো গন্ধ লেগে যায় নাকে
শিবতলার সামনে দুটো ছেলে
ড্যাঙগুলি খেলায় ব্যস্ত
অবাধ্য জলে পানকৌড়ির লুকোচুরি খেলা

মাঠের ধারে এসে বোস বাড়ির ঠাকুমা
দূরে আঙুল দেখিয়ে বাপের বাড়ি দেখাতেন
নির্মম মুখ আর চোখের জল
বর্ণনা করত জমিদারবাড়ির পাশবিক হত্যা

সেই মাঠের ধারে ঠাকুমার ছেলেরা
মায়ের নামে মন্দির গড়েছে –
পুচকে যে মেয়েটা পুতুল খেলবে বলে
আমার হাত ধরে টানাটানি করত
বেঁচে থাকলে কনের সাজে একদিন
এই মন্দিরে নিয়ে এসে দেখাতাম
পুতুল গরে কেমন শৈশবে ফিরছি আমরা -