দুটি কবিতা




দেবাশিস মুখোপাধ্যায়




টপ্পা

রাতের বারান্দা স্নান করছে জোছনায়
আমার সঙ্গে বসে আমার পুরনো টেপ রেকর্ডার
আর নিধুবন না থাকলেও নিধুবাবুতে
ভেসে যাচ্ছেন বুদ্ধদেব গুহ
তন্ময় চন্ডীদাস মাল , রামকুমার
উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে সমস্ত পুটুস ফুল
জলজ গন্ধ উঠে আসছে নিজের ভিতর থেকে
পৃথিবী গান হয়ে ভেসে গেলে
এই পুরনো বাড়ি কখন সব রহস্যের পর্দা উঠিয়ে
বৃষ্টির পায়ে ঘুঙুর পরালো
কেউ ভালোবাসার পান মুখে তুলে
দিলে
চোখ সুরমা পরে
জোছনাকুমারীতে ডুব আর ডুব ...


পুনর্জন্মকথা

বিসর্জনের ঢাকের শব্দের গভীরে
আনন্দ আর ব্যথার পিঠোপিঠি হেঁটে চলা
জলকে কান্নার হিসেব নিতে বলে
ডুব দিয়ে দেখে নেয় জলজ সংসার
ভাসিয়ে নেবার পর স্মৃতিটুকু জল হয়ে গেছে

পবিত্র বারি মাথায় নিয়ে শোভাযাত্রা ফেরত মানুষ
অদ্ভুত নেশায় ঘুমের গভীরে একবার হেসে আর কেঁদে
একটা ধূসর স্বপকে পাশবালিশ করে ঘুমিয়ে পড়ে
আর কুয়াশারা কখন তাকে মিইয়ে দেয় জানতে পারে না

মেঘপাখির চাঁদ খেয়ে নেওয়ার গল্পটা
একটা নতুন রূপকথা সাজিয়ে নিলে
সবুজ অন্ধকার শরীরের ধারা দরবারী কানাড়া বাজায়
আর সঙ্গীতের গন্ধে সারা পাড়া ম ম করে ওঠে

খোয়া যাওয়ার কথা লিখতে লিখতে খুঁজে পাওয়া
আনন্দ হয়ে এলে জানালা খুলে যায়
ভোরের লালটুস বল খেলতে থাকে ঠোঁটের ওপর

ভিজে কাঠের দেওয়ালে কখন যে ছড়ালো
ভৈঁরো রাগের সরোদ ....